Advertisement

Responsive Advertisement

মিঠামইন হাওর

 



ঘুরে আসুন স্বপ্নের মিঠামইন হাওর

বর্ষা এলেই যাদের মন দিগন্তবিস্তৃত জলরাশির খোঁজে ছটফট করে, তাদের জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওর। একসময় হাওর মানেই ছিল দুর্গম পথ আর নৌকায় মাইলের পর মাইল পাড়ি দেওয়া। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে হাওরের চিরচেনা রূপ। বিশেষ করে, মহামূল্যবান অল ওয়েদার রোড (All Weather Road) চালুর পর মিঠামইন এখন ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এক "হট ফেবারিট" ডেস্টিনেশন।

মিঠামইন হাওরের ভৌগোলিক অবস্থান

কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত হাওরগুলোর মধ্যে মিঠামইন অন্যতম দৃষ্টিনন্দন। এই উপজেলার উত্তরে রয়েছে ইটনা ও আজমিরীগঞ্জ, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম, পূর্বে বানিয়াচং ও অষ্টগ্রাম এবং পশ্চিমে করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা। চারপাশের এই হাওরবেষ্টিত জনপদে বছরের প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস থইথই পানি থাকে, যা বর্ষায় রূপ নেয় এক মিনি সমুদ্রে।

মূল আকর্ষণ: অল ওয়েদার রোড (All Weather Road)

মিঠামইনের মূল আকর্ষণ হলো জলের বুক চিরে চলে যাওয়া প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মসৃণ পিচঢালা পথ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নির্মিত এই সড়কটি কিশোরগঞ্জের তিন হাওর উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে এক সুতোয় বেঁধেছে। উত্তাল জলরাশির মাঝে এই কালো মসৃণ পথ দিয়ে গাড়ি বা অটোতে ছুটে চলার অনুভূতি এককথায় অসাধারণ।


মিঠামইন হাওরে কী কী দেখবেন?

  • দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি: নৌকায় বা অল ওয়েদার রোডের পাশে দাঁড়িয়ে যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানির খেলা।

  • মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাড়ি: মিঠামইন সদরে পৌঁছে আপনি অটো নিয়ে দেখে আসতে পারেন স্বাধীন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের বাড়ি।

  • ইটনা ও অষ্টগ্রামের সৌন্দর্য: অল ওয়েদার রোড ধরে আপনি সহজেই একদিকে অষ্টগ্রাম এবং অন্যদিকে ইটনা উপজেলায় চলে যেতে পারবেন। এখানকার হাশেমপুর ব্রিজ বা বালুখালী এলাকার চারপাশের দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো।

  • ঐতিহাসিক ঈশা খাঁর বাড়ি: কিশোরগঞ্জ সদর থেকে কিছুটা দূরে করিমগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে বারো ভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, যা ইতিহাসের সাক্ষী।


ভ্রমণের সেরা সময়

মিঠামইন হাওরের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। এই সময় হাওর পানিতে পুরোপুরি পূর্ণ থাকে। তবে শীত বা শুকনা মৌসুমেও হাওরের রূপ অন্যরকম সুন্দর হয়ে ওঠে, তখন মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের মাঠ চোখ জুড়িয়ে দেয়।


কীভাবে যাবেন?

১. ঢাকা থেকে বাসযোগে:

ঢাকার মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে 'অনন্যা', 'অনন্যা সুপার' বা 'যাতায়াত' পরিবহনের বাসে উঠে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছাতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে। বাস স্ট্যান্ড থেকে ইজিবাইকে করে চলে যান স্টেশন রোড, সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে ১ ঘণ্টায় পৌঁছান চামড়া বন্দর (ঘাট)

২. ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে:

কমলাপুর থেকে বুধবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৭:১৫ মিনিটে এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে নেমে একইভাবে চামড়া ঘাটে যেতে হবে।

৩. চামড়া ঘাট থেকে মিঠামইন:

চামড়া ঘাট থেকে প্রতি ঘণ্টায় মিঠামইনের উদ্দেশ্যে ট্রলার বা স্পিডবোট ছাড়ে। ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা এবং সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা। আপনি চাইলে পুরো ট্রলার রিজার্ভ করেও আশেপাশের হাওর ঘুরে মিঠামইন যেতে পারেন।


খাওয়া-দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা

মিঠামইন বাজারে বেশ কিছু লোকাল হোটেল রয়েছে যেখানে হাওরের তাজা মাছ (যেমন: বোয়াল, আইড়, চিতল, টেংরা ইত্যাদি) দিয়ে দারুণ দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন।

আর রাতে থাকার জন্য মিঠামইন ঘাটের কাছেই রয়েছে জেলা পরিষদের রেস্ট হাউস। এছাড়া কিশোরগঞ্জ সদরে ভালো মানের হোটেল (যেমন: রিভার ভিউ, ক্যাসেল সালাম, আল মোবারক) রয়েছে, যেখানে রাতে থেকে পরের দিন আবার ব্যাক করা সম্ভব।

বিশেষ অনুরোধ: হাওরের সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। দয়া করে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য হাওরের পানিতে ফেলবেন না। বর্ষাকালে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া গভীর হাওরে নৌভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক!


আর্টিকেলটি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানান এবং হাওর অঞ্চলের এমন আরও ভ্রমণ গাইড পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন haorbd.com-এ।

Post a Comment

0 Comments