কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে তমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কুহিনূর নিখোঁজের নেপথ্যে বেরিয়ে এলো চরম নির্মম ও লোমহর্ষক তথ্য। পুলিশের হাতে আটক সন্দেহভাজন আসামির জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নৌকায় তুলে কুহিনূরকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো হাওর অঞ্চলে চরম ক্ষোভ, উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বীকারোক্তিতে উঠে এলো ধূর্ততা ও নৃশংসতা
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কুহিনূরকে নৌকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় মূল অভিযুক্ত। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তার আরও দুই সহযোগী। জনমানবহীন হাওরের বুকে তিন বন্ধু মিলে কুহিনূরের ওপর পাশবিক নির্যাতন (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) চালায়। একপর্যায়ে নির্যাতনের তীব্রতায় কুহিনূর অজ্ঞান হয়ে পড়লে, নিজেদের পাপ লুকাতে ঘাতকরা সমস্ত মানবতা ও
বিবেক বিসর্জন দেয়। তারা অজ্ঞান কুহিনূরের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে চলন্ত নৌকা থেকে গভীর নদীতে ফেলে দেয়।
দুই দিন পর ভেসে উঠেও নিখোঁজ লাশ পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর উপজেলার হামিদপল্লী এলাকায় কুহিনূরের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কুহিনূরের মা সেখানে ছুটে গিয়ে নিজের মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জোরালো পানির স্রোতে মরদেহটি পুনরায় তলিয়ে ও ভেসে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ মরদেহটি উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
স্তব্ধ মিঠামইন, ফুঁসে উঠেছে সচেতন মহল
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ইতোমধ্যে মিঠামইনের সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিশাল মানববন্ধন করেছেন। এই এলাকার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলছেন— "এখানে শুধু একটি মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়নি, কলঙ্কিত হয়েছে পুরো মিঠামইনের নাম। শূন্য হয়েছে একজন মায়ের বুক, হারিয়ে গেছে এক ভাইয়ের কলিজার টুকরো বোন। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন ও হাসি চিরতরে নিভে গেছে।"
![]() |
| সন্দেহভাজন আসামী হৃদয় |
| ||
.png)


