মিঠামইন | haorbd.com
০২ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় তমিজা খাতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কুহিনুরের রহস্যজনক নিখোঁজ এবং পরবর্তীতে মরদেহ ভেসে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। এই জঘন্য ও নিন্দনীয় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িত অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আজ উপজেলার সকল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এক বিশাল মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল মিঠামইন
আজ সকাল থেকেই মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার, প্লে-কার্ড হাতে নিয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে এবং পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তা বিশাল এক মানববন্ধনে রূপ নেয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শান্ত ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই হাওর অঞ্চল। এখানে এমন বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আর কোনো কুহিনুরকে অকালে হারিয়ে যেতে দেখতে চাই না। হাওরের বুকে আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে।" আন্দোলনকারীরা অনতিবিলম্বে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আসামিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণ ও লাশ ভেসে যাওয়ার দাবি
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার থেকে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী কুহিনুর। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর গত সোমবার রাতে উপজেলার হামিদপল্লী এলাকায় একটি মেয়ের মরদেহ দেখতে পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুহিনুরের মা দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং লাশটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।
তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জোরালো পানির স্রোতে মরদেহটি তলিয়ে এবং ভেসে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল হাওরের বুকে তল্লাশি চালিয়েও মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছে না।
ক্ষোভ, শিক্ষার্থীর দাবি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো মিঠামইন উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন—যেন অতি দ্রুত ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয় এবং সাধারণ জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শান্ত-সুন্দর হাওর হোক সবার জন্য নিরাপদ। যেহেতু বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ তদন্তাধীন, তাই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিখুঁত তদন্ত এবং আদালতের মাধ্যমেই সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হবে। আমরা কুহিনুরের দ্রুত সন্ধান কামনা করছি এবং এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যা ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ করতে যে কারো বুক কাঁপিয়ে দেবে।

